জন্ম থেকেই অন্ধ হেলাল মিয়া (৬৫)। তাঁর পরিবারের ১৩ সদস্যের ৯ জনই জন্মান্ধ। মূলত গান গেয়ে পাওয়া অর্থে পরিবারটির সংসার চলে। প্রায় ৫০ বছর ধরে গানই তাঁদের জীবিকার একমাত্র উৎস। কিন্তু সম্প্রতি কিছু লোকের বাধা- বিপত্তির কারণে পরিবারটির গান থামাতে হয়, বন্ধ হয়ে যায় আয়ের উৎস। ছয় দিন পর গতকাল মঙ্গলবার থেকে পরিবারটি আবারো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শহরের জাতীয় বীর আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চ–সংলগ্ন এলাকায় গান গাইতে শুরু করেছেন।
জন্মান্ধ হেলাল মিয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার রাজঘর গ্রামের বাসিন্দা। তার পরিবারের অন্য দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী সদস্যদের মধ্য হেলালের ছেলে সাদেক মিয়া (৪৫), ফারুক মিয়া (৩০), তারেক মিয়া (২৫) ও বারেক মিয়া (২০), মেয়ে খায়রুন্নেছা (৪০), নাতনি রোকসানা বেগম (১৬), নাতি মোস্তাকিম (১১) ও মুজাহিদ (১০)। পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরে আবদুল কুদ্দুস মাখন পৌর মুক্তমঞ্চ–সংলগ্ন এলাকায় সপরিবারে গান গেয়ে সংসার চালান।
খবর নিয়ে জানা যায়, বাউল শিল্পী আবুল সরকারের বিচারের দাবিতে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। গত বুধবার দুপুরে তাঁদের কয়েকজন পৌর মুক্তমঞ্চে গিয়ে হেলাল ও তাঁর পরিবারকে গান গাইতে বাধা দেন এবং ভিক্ষা করে সংসার চালানোর পরামর্শ দেন এবং আবার গান গাইলে তাঁদের হারমোনিয়াম, ঢোলসহ অন্য সরঞ্জাম ভেঙে ফেলার হুমকিও দেওয়া হয়। ওই সময় হেলাল ও তাঁর পরিবারের অন্য সদস্যরা ভয়ে নিজেদের গ্রামের বাড়ি রাজঘর এলাকায় চলে যান। এতে করে পরিবারটির আয়ের পথ বন্ধ থাকায় তাঁরা কষ্টে দিন পার করছিলেন।
পরে বিষয়টি নিয়ে আবার আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান মোল্লা সমাধানের উদ্যোগ নেন। তিনি জেলার আলেম-উলামাদের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। মাদ্রাসার কোনো শিক্ষার্থী হেলাল ও তাঁর পরিবারকে গান গাইতে দেবে না বলে আশ্বাস দেন তাঁরা। পরে হাফিজুরকে বিষয়টি জানানো হয়। গতকাল সকাল থেকে তাঁরা সপরিবারে আবার পৌর মুক্তমঞ্চে গান শুরু করেন। এ বিষয়ে হেলাল মিয়া বলেন, হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ বিএনপি কয়েকজন নেতা তাঁকে গান গাওয়ার বিষয়ে সুযোগ করে দিয়েছেন। শঙ্কা থাকলেও গতকাল তাঁরা গান গেয়েছেন।
হাফিজুর রহমান মোল্লা আখাউরাকে বলেন, ‘শুনেছি কিছু যুবক তাঁদের গান গাইতে নিষেধ করেছিলেন। আশা করি, এখন আর কোনো সমস্যা হবে না।’

