ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় তিতাস নদীতে বিপুল পরিমাণ পণ্যবোঝাই একটি নৌকা ডুবে গেছে। নৌকাটিতে প্রায় দেড় কোটি টাকার বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক পণ্য ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। সোমবার সকালে আখাউড়া বড় বাজার ঘাটের কাছাকাছি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে নৌকাটি ডুবে গেলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের কাছ থেকে জানা যায়, সোমবার ভোরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জগৎবাজার এলাকা থেকে বিভিন্ন ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য নিয়ে একটি বড় নৌকা আখাউড়ার উদ্দেশে রওনা দেয়। পরে সকাল আনুমানিক সাড়ে ৬টার দিকে নৌকাটি বড় বাজার ঘাটের কাছাকাছি পৌঁছায়। ঘাটে ভেড়ানোর সময় নদীতে স্রোতের তীব্রতা বেশি থাকায় নৌকাটি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালককে বেগ পেতে হয়।
একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নৌকাটি নদীতে থাকা একটি মাছ ধরার ছোট নৌকার সঙ্গে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের পর বড় নৌকাটি একদিকে কাত হয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই ভারসাম্য হারিয়ে সেটি পানিতে উল্টে ডুবে যায়। নৌকায় থাকা পণ্যগুলোর একটি বড় অংশ নদীর পানিতে তলিয়ে যায়।
দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে ডুবে যাওয়া নৌকা এবং পানিতে তলিয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য স্থানীয় শ্রমিকদের সহায়তায় কাজ শুরু করা হয়। নদীতে স্রোত বেশি থাকায় উদ্ধারকাজে কিছুটা সমস্যা হচ্ছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
বড় বাজারের ইজারাদার লুৎফর রহমান চৌধুরী জানান, নৌকাটিতে আখাউড়ার সড়ক বাজার ও বড় বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীর জন্য আনা বিভিন্ন ধরনের পণ্য ছিল। এর মধ্যে চাল, ডাল, পেঁয়াজ, চিনি ছাড়াও বেশ কিছু নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী ছিল। নৌকাটিতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি পরিমাণ পণ্য বোঝাই করা হয়েছিল বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, নৌকায় থাকা পণ্যের মোট মূল্য আনুমানিক দেড় কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। তবে উদ্ধারকাজ শেষ হওয়ার পর প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যাবে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কয়েকজন জানান, নদীপথে পণ্য পরিবহন তুলনামূলকভাবে সহজ ও খরচ কম হওয়ায় নিয়মিতভাবেই বিভিন্ন বাজার থেকে আখাউড়ায় পণ্য আনা হয়। কিন্তু নৌযানে অতিরিক্ত পণ্য বোঝাই করা হলে নদীতে চলাচলের সময় ভারসাম্যহীনতার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষ করে স্রোত বেশি থাকলে এ ধরনের নৌযান নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।
নৌকাটি ডুবে যাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পানিতে তলিয়ে যাওয়া পণ্যগুলোর কতটা উদ্ধার করা সম্ভব হবে, সেটিই এখন ব্যবসায়ীদের প্রধান চিন্তার বিষয়। স্থানীয় লোকজনও উদ্ধারকাজে সহযোগিতা করছেন।
এদিকে দুর্ঘটনার পর নদীপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে নৌকার ধারণক্ষমতা অনুযায়ী মালামাল বোঝাই করা এবং স্রোতের পরিস্থিতি বিবেচনা করে চলাচলের বিষয়ে সতর্ক হওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
উদ্ধারকাজ শেষ হলে ডুবে যাওয়া নৌকা ও পণ্য উদ্ধারের পর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নৌকাটি কী কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিল এবং অতিরিক্ত পণ্য বোঝাইয়ের কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কি না, সেটিও আরও পরিষ্কার হবে।

