দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন করে সংকট দেখা দিয়েছে। আদানি বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট আকস্মিকভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি আরএনপিএলের একটি ইউনিটও বর্তমানে উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে প্রায় ১২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াটে।
উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আবারও লোডশেডিং বেড়েছে। বিশেষ করে শহরাঞ্চলে দিনে একাধিকবার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার খবর পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, গ্রামাঞ্চলের কিছু এলাকায় ৭ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার পরিস্থিতিও তৈরি হয়েছে। তীব্র গরমের মধ্যে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
বিদ্যুৎ সংকটের পেছনে শুধু কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রের উৎপাদন কমে যাওয়াই নয়, কয়েকটি গ্যাসচালিত কেন্দ্রের কারিগরি সমস্যাও ভূমিকা রাখছে। আশুগঞ্জের ৪৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বুধবার পর্যন্ত ৩১৯ মেগাওয়াট উৎপাদন করছিল। পরবর্তীতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় কেন্দ্রটির উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে ঢাকার আশপাশের অন্তত সাতটি বিদ্যুৎকেন্দ্র পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে অথবা নির্ধারিত সক্ষমতার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে। একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহ অঞ্চলেও। এসব এলাকার একটি করে বিদ্যুৎকেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশে বিদ্যুতের মোট চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৩৪৫ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে জাতীয় পর্যায়ে উৎপাদন হয়েছে ১২ হাজার ৭৮৮ মেগাওয়াট। ফলে চাহিদা ও উৎপাদনের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে।
ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় গত ৭ আগস্ট থেকে আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন কমতে শুরু করে। তবে গত মাসের শেষদিকে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলে কেন্দ্রটি উৎপাদন বাড়ায়। দিনের বেলায় প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ প্রায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করছিল কেন্দ্রটি।
গতকাল রাতে আদানির কেন্দ্রটির উৎপাদন ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটেরও বেশি হয়েছিল। কিন্তু একটি ইউনিট হঠাৎ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। বর্তমানে কেন্দ্রটি থেকে ৭৫০ মেগাওয়াটেরও কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী কয়েকটি কেন্দ্র একসঙ্গে বন্ধ বা কম সক্ষমতায় চলায় জাতীয় গ্রিডে সরবরাহের চাপ আরও বেড়েছে। এর প্রভাব পড়ছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায়। ফলে গরমের মধ্যে লোডশেডিংয়ের মাত্রা বাড়ায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

