আগাম জাতের টমেটো চাষ করে কোটিপতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কৃষক

নিজস্ব প্রতিবেদক, মোঃ সাইফুল আলম – আখাউড়া ডট কম

সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত ও সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আপনি পেতে পারেন কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ। সঠিক দিক নির্দেশনা পেলে ফলন হতে পারে স্বপ্নের মতো। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অনেকেই আজকাল বিভিন্ন প্রকার সবজি বা ফলের বাগান করে আর্থিক লাভবান হচ্ছেন। হচ্ছেন স্বাবলম্বী ও সামাজিক মর্যাদার পাত্র।

টমেটো চাষ

শীত আসার আগে বা শীতের সময় অনেক সবজি চাষ করে ভালো ফলন পাচ্ছেন। এই মৌসুমে বেশিরভাগ মানুষ চাষ করছেন টমেটো। আগাম জাতের টমেটো চাষ করে প্রায় সবার মুখে হাসি ফুটছে। এলাকায় গল্প আছে কোটিপতি কৃষক আসছে। মোঃ আবুল কালাম, রহিম শেখ, মনিরসহ অনেকেই টমেটো চাষে স্বাবলম্বী হয়েছেন। তাদের কৃষি কাজের গতি ও স্টাইল দেখে অনেক তরুনরাই চাষাবাদে আগ্রহ হচ্ছেন।

টমেটো চাষ
শীত কালীন টমেটো চাষঃ

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ও বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) বেশ কিছু টমেটোর জাত উদ্ভাবন করেছে। সেই সমস্ত জাত গুলো সুনামের সাথেই চাষ হচ্ছে পুরো দেশ জুড়ে। বেশ কিছু আগাম ও হাইব্রিড জাত রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল বারি টমেটো ৪, বারি টমেটো ৫, রোমা ভিএফ, রোমারিও, টিপু সুলতান, গ্রেট পেলে, ডেল্টা এফ ১, উন্নয়ন এফ ১, পুষারুবী, নিউ রূপালী এফ ১ ইত্যাদি।

এছাড়া ভরা মৌসুমের জন্য রয়েছে অনেকটি জাত। এসব জাতের মধ্য থেকে মানিক, রতন, বারি টমেটো ৩, বারি টমেটো ৬, বারি টমেটো ৭, বারি টমেটো ৮, বারি টমেটো ৯, বাহার, মহুয়া ইত্যাদি জাতকে সেরা বলা হয়। পরিক্ষিত এই জাতগুলো চাষ করে কৃষকরা ভালো করছেন।

মোঃ আবুল কালাম ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার রামরাইল ইউনিয়নের ডেঙ্গুর বাড়ির গ্রামের বাসিন্দা। তিনি দীর্ঘদিন প্রবাসে ছিলেন। বাড়িতে আসার পর কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিয়ে টমেটো চাষ করার পরিকল্পনা করেন। একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বাড়ির পাশেই সাড়ে তিন বিঘা জমি নেন। সেখানে প্রায় ৪০ লক্ষ্য টাকা খরচ করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করেন। পরে জমিতে মাটি ফেলে উঁচু করেন। এই বছর তিনি বারি ৮ জাতের আগাম টমেটো চাষ করেন। প্রায় ১০ জন শ্রমিক নিয়ে কাজ করেন এবং কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ মতন পরিচর্যা করেন।

tometo Yield

তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ্! অনেক ভালো ফলন হয়েছে। গত চার মাসে আমার খরচ হয়েছে ৬ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে আমার বিক্রি হয়েছে ১০ লাখ টাকা। আগামী মাসে আমার বাগান থেকে বিক্রি হবে আনুমানিক ২০ লাখ টাকা। আবুল কালাম ভাইয়ের মুখের হাসিই বলে দিচ্ছে তার সফলতার কথা। তার মতো এলাকার কয়েকজন কৃষক মিলে কোটিপতি হয়েছেন শুধুমাত্র টমেটোর চাষের মাধ্যমে। এতে করে এলাকায় ব্যাপক সারা পড়েছে। পাড়া মহল্লায় তাদের নিয়ে চর্চা হচ্ছে। বিশেষ করে অনেক তরুনরা তাদের দেখে উদ্ভুদ্ধ হচ্ছেন নতুন করে স্বপ্ন দেখতে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া, বিজয়নগর, কসবা ও সদর উপজেলায় প্রচুর পরিমানে চাষ হচ্ছে আগাম জাতের ও হাইব্রিড টমেটো। জেলার চাহিদা মিটিয়ে চারা দেশের বিভিন্ন স্থানে পাঠাতে পারছেন। সঠিক দিকনির্দেশনা ও পরিচর্যার মাধ্যমে আপনিও হতে পারেন তাদের মতো উদ্যোগী।

Related Posts

About The Author

Add Comment