আজ মঙ্গলবার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে মাওলাগঞ্জ বাজার অডিটোরিয়ামে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ সাকি বলেন, শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আমরা বাংলাদেশকে নতুনভাবে গড়ে তোলার সুযোগ পেয়েছি। বিএনপি নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেওয়ার ২২ দিনের মাথায় পরিষ্কারভাবে নিজেদের নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের কাজ শুরু করেছে।
বিএনপির নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপে সারা দেশের ১৩টি জেলা, ১৩টি সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে মোট ৩৭ হাজার ৫৬৭টি নারীপ্রধান পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনা হবে। এরই অংশ হিসেবে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের আছাদনগর গ্রাম ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ পাইলট প্রকল্পের আওতায় প্রথম ধাপে নির্বাচিত হয়েছে। আছাদনগর গ্রামের ৮৬টি পরিবারের নারীপ্রধানের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ করার কথা। তবে আজ ৭৯ জনের মধ্যে বিতরণ করা হয়েছে। জটিলতার কারণে সাতটি পরিবারকে ওই কার্ড দেওয়া সম্ভব হয়নি।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক শারমিন আক্তার জাহানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন মাহবুব, পুলিশ সুপার শাহ্ মো. আব্দুর রউফ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এম এ খালেক ও জিয়াউদ্দিন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মেহেদী হাসান, সাধারণ সম্পাদক এ কে এম মুসা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তারিকুল ইসলাম, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রবিউল হাসান প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন জোনায়েদ সাকি। গণসংহতি আন্দোলনের এই প্রধান সমন্বয়কারী বলেন, ‘এটি (ফ্যামিলি কার্ড) একটি সর্বজনীন কার্ড হবে। কাজেই সবাই এই কার্ড পাবে। সবাইকে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা হবে। আমাদের সীমাবদ্ধতা আছে। এই কাজ ধীরে ধীরে বাস্তবায়ন করার দিকে আমাদের যেতে হবে। সে কারণে পাইলট প্রজেক্ট শুরু হয়েছে।
জোনায়েদ সাকি আরও বলেন, ‘চার মাসে ফ্যামিলি কার্ড পাবে ৩৭ হাজার পরিবার। চার মাসের প্রস্তুতি চলবে। আগামী বাজেট থেকে এই ফ্যামিলি কার্ড ধীরে ধীরে সবার জন্য উন্মুক্ত হবে। আপনারা আশ্বস্ত থাকেন, এটা কেবল বিশেষ কয়েকজনকে দেওয়া হচ্ছে না। সবার কাছেই ধীরে ধীরে এই সুবিধা পৌঁছাবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সরকারের একটি বৃহৎ সামাজিক সুরক্ষা উদ্যোগ, যা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আমরা সামাজিক সুরক্ষা খাতকে দ্রুত কার্যকর করতে চাচ্ছি।
উপকারভোগীদের চিহ্নিত করার বিষয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘সবার আগে, সবচেয়ে যাঁদের প্রয়োজন, তাঁদের থেকে আমার শুরু করছি। উপকারভোগী নির্বাচনপ্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে নির্দিষ্ট কিছু মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। পাইলট প্রজেক্ট সরকারেরই একটি নিয়ম, ছোট আকারে শুরু করে বাস্তবায়ন করা হবে। এখানে যদি কোনো ভুলত্রুটি থাকে, তা শুধরে নেওয়া হবে এবং তার প্রসার করা হবে। এই কার্ড আগামী দিনে অন্তত দুই কোটি পরিবারের প্রধানের কাছে পৌঁছে দেওয়া হবে। ধীরে ধীরে সব পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

