আখাউড়ায় রেলক্রসিংয়ে সরকারি জায়গা দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক, আখাউড়া:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের গঙ্গাসাগর রেলস্টেশন সংলগ্ন এলাকায় সরকারি জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, গতকাল গভীর রাতে গঙ্গাসাগর রেলস্টেশনের রেলক্রসিংয়ের দক্ষিণ-পশ্চিম পাশে সরকারি জায়গায় টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বাঁশের খুঁটি স্থাপন করে আরও কিছু জায়গা ঘিরে ফেলার অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, দখল করা জায়গায় ভবিষ্যতে দোকান বা মার্কেট নির্মাণের প্রস্তুতি হিসেবে এসব স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

সরেজমিনে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গঙ্গাসাগর রেলক্রসিংয়ের পাশে একটি মোড় থাকায় রেললাইনের ওপর দিয়ে ট্রেন আসা-যাওয়ার বিষয়টি অনেক সময় দূর থেকে স্পষ্টভাবে দেখা যায় না। এর ওপর ক্রসিংটি অরক্ষিত হওয়ায় সেখানে কোনো স্থায়ী গেটম্যান দায়িত্ব পালন করেন না বলে স্থানীয়রা জানান। ফলে রেললাইন পারাপারের সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা আরও জানান, অতীতে এই রেলক্রসিং এলাকায় একাধিক দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। এমন পরিস্থিতিতে রেলক্রসিংয়ের কাছাকাছি নতুন করে ঘরবাড়ি বা দোকানপাট নির্মাণ করা হলে দৃষ্টিসীমা আরও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে পথচারী, স্থানীয় বাসিন্দা এবং রেলযাত্রীদের জন্য দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তাদের দাবি, রেলওয়ের জায়গা কিংবা সরকারি সম্পত্তি হলে তা যথাযথভাবে চিহ্নিত করে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করা হোক এবং ভবিষ্যতে যাতে কেউ নতুন করে জায়গা দখল করতে না পারে, সে বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি বা তাদের অনুসারীরা এ ধরনের দখল কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারেন। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যও তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো দৃশ্যমান কোনো উচ্ছেদ কার্যক্রম বা বাধা দেওয়ার উদ্যোগ দেখা যায়নি। সরকারি জায়গা দখলের অভিযোগের বিষয়ে প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের নজরদারি বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

এলাকাবাসীর মতে, শুধু জায়গা দখলমুক্ত করাই যথেষ্ট নয়; রেলক্রসিংটির নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। সেখানে সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড স্থাপন, পর্যাপ্ত আলো ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সম্ভব হলে গেটম্যানের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তাদের আশঙ্কা, দখলকৃত জায়গায় যদি ভবিষ্যতে দোকান বা মার্কেট স্থাপন করা হয়, তাহলে রেলক্রসিং এলাকায় মানুষের চলাচল ও যানবাহনের চাপ আরও বাড়বে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হওয়ার পাশাপাশি ট্রেন চলাচলের সময়ও নিরাপত্তাজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে।

স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সরকারি জায়গার সীমানা নির্ধারণ এবং অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রশাসন ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অনুমোদন বা বৈধ কাগজপত্র রয়েছে কি না, সেটিও যাচাই করার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ এবং জনপ্রতিনিধিদের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ এই রেলক্রসিংয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আরও পড়ুন: আদানি ও আরএনপিএলের ইউনিট বন্ধ, বিদ্যুৎ ঘাটতি

Related Posts

About The Author