ভারতীয় হাইকমিশনারের সাথে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সাক্ষাৎ

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা এ কে এম শামছুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।

বুধবার ঢাকার সেনানিবাস এলাকায় অবস্থিত সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সাক্ষাতের বিষয়টি আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর) এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানিয়েছে।

সাক্ষাতের শুরুতেই দুই দেশের প্রতিনিধির মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে শুভেচ্ছা ও কুশল বিনিময় হয়। পরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার প্রতিরক্ষা সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন তারা। বিশেষ করে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর পেশাগত দক্ষতা বাড়ানো, প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং অভিজ্ঞতা বিনিময়ের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

বৈঠকে যৌথ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। দুই দেশের সামরিক বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও পেশাগত অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সক্ষমতা আরও উন্নত করার সুযোগ নিয়ে আলোচনা হয়। এর পাশাপাশি সামরিক পর্যায়ে পারস্পরিক সহযোগিতা ভবিষ্যতে কীভাবে আরও কার্যকর করা যায়, সে বিষয়েও মতবিনিময় করা হয়।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাও আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল। বাংলাদেশ ও ভারত উভয় দেশই বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে অভিজ্ঞতা, প্রশিক্ষণ ও সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনী কীভাবে একে অপরকে সহযোগিতা করতে পারে, সে বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে।

এ ছাড়া আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। বিশেষ করে সমুদ্র নিরাপত্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেওয়া হয়। বঙ্গোপসাগর ও বৃহত্তর অঞ্চলের নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় পারস্পরিক সহযোগিতা উভয় দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে বৈঠকে মত প্রকাশ করা হয়।

সাক্ষাৎকালে ভারতীয় হাইকমিশনার বাংলাদেশের সরকারের বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম ও অগ্রগতির বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে তিনি দুই দেশের সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে বিদ্যমান সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে দেখে। প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন পর্যায়ে যে সহযোগিতা চলে আসছে, তা ভবিষ্যতে আরও বিস্তৃত করার বিষয়ে ভারতের আগ্রহ রয়েছে বলেও তিনি জানান।

বিশেষ করে দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যে পেশাগত যোগাযোগ বাড়ানো, সামরিক সক্ষমতা উন্নয়ন এবং নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট অভিন্ন স্বার্থের ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে ভারতের প্রতিশ্রুতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ভারতীয় হাইকমিশনার।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতার পাশাপাশি আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মতবিনিময় হয়। পরিবর্তিত বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

দুই পক্ষের আলোচনায় আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং অভিন্ন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থান প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি ভবিষ্যতে সামরিক ও প্রতিরক্ষা পর্যায়ে যোগাযোগ আরও কার্যকর করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ ও ভারতের মতো প্রতিবেশী দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা শুধু সামরিক সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; দুর্যোগ মোকাবিলা, সমুদ্র নিরাপত্তা, প্রশিক্ষণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার মতো বিষয়েও এর গুরুত্ব রয়েছে। নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ ও মতবিনিময়ের মাধ্যমে এসব ক্ষেত্রে সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।

সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্য দিয়ে দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে আরও কার্যকর ও পারস্পরিক স্বার্থভিত্তিক করার বিষয়ে উভয় পক্ষের আগ্রহের বিষয়টি আবারও স্পষ্ট হয়েছে। ভবিষ্যতে যৌথ প্রশিক্ষণ, সক্ষমতা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং নিরাপত্তা সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করবে—এমন প্রত্যাশাই বৈঠকে উঠে এসেছে।

Related Posts

About The Author