ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় অখণ্ড বিজয়নগর উপজেলা রক্ষার দাবিতে ঢাকা–সিলেট মহাসড়কে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে উপজেলার চান্দুরা এলাকায় বিজয়নগরের সর্বস্তরের জনগণের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এ সময় মহাসড়কে প্রায় আধা ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ ছিল।
বিক্ষোভ সমাবেশে এনসিপি ও বিএনপির নেতা–কর্মীদের পাশাপাশি উপজেলার বিভিন্ন স্তরের লোকজন অংশ নেন। এতে বক্তব্য দেন কেন্দ্রীয় এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ, এনসিপির বিজয়নগর উপজেলার উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী আমিনুল ইসলাম, বিএনপি নেতা রাষ্ট্র মিয়া প্রমুখ।
জেলার বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়নকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসন থেকে কেটে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ)–এর সঙ্গে যুক্ত করার খসড়া করেছে নির্বাচন কমিশন। এই ইউনিয়নগুলো হলো বুধন্তি, চান্দুরা ও হরষপুর। এ বিষয়ে গতকাল রোববার শুনানির আয়োজন করা হয়। শুনানিতে নির্বাচন কমিশনের এই প্রস্তাবের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন রুমিন ফারহানা। এর বিপক্ষে যুক্তি দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহ। তিনি ওই তিন ইউনিয়নকে বিজয়নগর উপজেলায়ই দেখতে চান বলে মত দেন।
জানা গেছে, একপর্যায়ে দুই পক্ষ উত্তেজিত হয়ে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। মো. আতাউল্লাহর অভিযোগ, তিনিসহ তাঁর দলের নেতা–কর্মীদের ওপর হামলা হয়েছে। অপর দিকে রুমিন ফারহানার দাবি, আতাউল্লাহ পরিচিত মুখ নন। প্রথমে তাঁকে ধাক্কা দেওয়া হয়েছে। তারপর তো আর তাঁর লোকজন বসে থাকবেন না।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–২ (সরাইল ও আশুগঞ্জ) আসনে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চান রুমিন ফারহানা। অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনে নির্বাচন করতে চান জেলা বিএনপির সভাপতি খালেদ হোসেন (মাহবুব শ্যামল) ও এনসিপির মো. আতাউল্লাহ।
ইসিতে রুমিন ফারহানার ওপর হামলার অভিযোগে তাঁর অনুসারীরা সরাইলে ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। অন্যদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম মুখ্য সংগঠক মো. আতাউল্লাহসহ অন্য নেতা–কর্মীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন দলটির স্থানীয় নেতা–কর্মীরা।
ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের আজকের বিক্ষোভ সমাবেশে আতাউল্লাহ বলেন, ‘অখণ্ড বিজয়নগর রক্ষার দাবিতে নির্বাচন কমিশনের শুনানিতে হামলার শিকার হয়েছি। আমরা অখণ্ড বিজয়নগর চাই। কোনোভাবেই বিজয়নগরকে বিভক্ত করতে দেওয়া হবে না। রুমিন ফারহানা গণতন্ত্র নষ্ট করেছেন। দীর্ঘ সময় বক্তব্য দিয়ে আমাকে বক্তব্য দিতে বাধা দিয়েছেন। তাঁর ইশারায় হামলা হয়েছে। আমি এ ঘটনায় তাঁর বিচার দাবি করছি। পাশাপাশি ইসিকে বিজয়নগরের তিনটি ইউনিয়ন বুধন্তি, চান্দুরা ও হরষপুরকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া–৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সঙ্গে রাখার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য বিনীতভাবে অনুরোধ করছি। তিনটি ইউনিয়নের বিষয়ে রুমিন ফারহানা মিথ্যাচার করেছেন এবং ভুল তথ্য দিয়েছেন।’

