তিতাসে সেতু নির্মাণ শেষ হয়নি চার বছরেও

সেতু নির্মাণ শেষ না হওয়ায় বিকল্প ভাসমান সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন ৪৫টি গ্রামের মানুষ। রেলিংবিহীন সরু ভাসমান সেতুতে প্রতিদিনই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা। বিশেষ করে, রাতে ভাসমান সেতুটি পারাপার হওয়া বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতুটির নির্মাণকাজ ধীরগতিতে চলছে।

দরপত্র অনুযায়ী সেতু নির্মাণকাজ দুই বছরের মধ্যে শেষ করার কথা। কিন্তু তিন দফা সময় বাড়িয়ে চার বছর হলেও নির্মাণকাজ এখনও শেষ করতে পারেননি ঠিকাদার। এই অবস্থা কুমিল্লার তিতাস উপজেলার আসমানিয়া বাজার-সংলগ্ন গোমতী নদীর ওপর নির্মাণাধীন সেতুটির।

গোমতী নদীর দুই পারের তিতাস উপজেলার পাঁচটি, মুরাদনগরের একটি ও দাউদকান্দি উপজেলার দুটি ইউনিয়নের ৪৫টি গ্রামের মানুষ ওই ভাসমান সেতুতে পারাপার হচ্ছেন। বেশি দুর্ভোগে আছেন আসমানিয়া বাজারের ব্যবসায়ী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এই এলাকার মানুষ বাধ্য হয়ে বিকল্প পথে কয়েক কিলোমিটার ঘুরে ও নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের দাউদকান্দি উপজেলার রায়পুর বাসস্ট্যান্ড থেকে তিতাসের বাতাকান্দি বাজার পর্যন্ত ১৫ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। সড়কটির সংস্কার কাজ চলছে। এই সড়কের আসমানিয়া বাজার-সংলগ্ন গোমতী নদীর ওপর ১০ কোটি ৭৭ লাখ ২৪ হাজার ৬৯৯ টাকা ব্যয়ে ৭৫ মিটার সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে। ২০২২ সালের ৮ আগস্ট নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। যা শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২৪ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ না হওয়ায় দুই দফায় ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়। কিন্তু তাতেও কাজ শেষ করতে পারেননি ঠিকাদার। তৃতীয় দফায় আগামী ৩১ জুন পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে। কাজটি বাস্তবায়ন করছে এসএবিএনএমই নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।

গোমতীর দুই পারের মানুষের চলাচলের জন্য নির্মাণাধীন সেতুর দক্ষিণ পাশে ২০ লাখ টাকা ব্যয়ে ৮০ মিটারের একটি অস্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হয়, যা গত বছরের ২৯ মে বালুবাহী বাল্কহেডের ধাক্কায় ভেঙে যায়। পরে বাল্কহেড মালিকদের সহযোগিতায় পুনরায় অস্থায়ী সেতুটি নির্মাণ করা হয়, যা গত বছর ২১ আগস্ট বন্যার সময় স্রোতে দ্বিতীয়বারের মতো ভেঙে যায়।

গোমতী নদীর পূর্বপাশে আসমানিয়া বাজার। প্রতিদিন পশ্চিম পারের প্রায় ২৫টি গ্রামের লোকজন বাজারে যাতায়াত করেন। পূর্ব পারের প্রায় ২০টি গ্রামের লোকজন উপজেলা সদরে যাতায়াতের জন্য সেতুটি ব্যবহার করেন। মূল সেতুর নির্মাণকাজ চলছে। সেতুর ওপরের অংশে কিছু শ্রমিককে কাজ করতে দেখা গেল। পাশের অস্থায়ী ভাসমান সেতুতে নেই নিরাপত্তা রেলিং, নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা। একটু অসতর্ক হলেই পড়ে যাওয়ার ঝুঁকি। ভাসমান সেতুর কাঠের পাটাতন বেশির ভাগই খুলে গেছে। অনেক জায়গার কাঠ ভেঙে পড়ে গেছে। ভাসমান বিকল্প সেতুর কারণে কয়েক মাস ধরে নৌযান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
নারান্দিয়া পশ্চিম গ্রামের সালেক মিয়া জানান, তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। আসমানিয়া বাজারে যাতায়াত দুষ্কর হয়ে পড়েছে। অতিরিক্ত মালপত্র কিনতে হলে কয়েক কিলোমিটার দূরে কড়িকান্দি বাজার অথবা বাতাকান্দি বাজারে যেতে হয়। এতে ভাড়া বাবদ বাড়তি খরচ হয়। ঠিকাদার তাঁর ইচ্ছামতো কাজ করায় এখনও সেতুর নির্মাণকাজ শেষ হয়নি।

এসএবিএনএমইর সাইটি ইঞ্জিনিয়ার আবদুল আহাদ বলেন, আগামী জুনের মধ্যে কাজ শেষ হবে। বিকল্প সেতুর বরাদ্দ এসেছিল। দুইবার ভেঙে যাওয়ার কারণে আর বিকল্প সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাসমান সেতুটি স্থানীয় ইউপি সদস্য মেরামত করবেন, সেজন্য কিছু টাকা চেয়েছেন। সংযোগ সড়কের রিভাইস প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, এটি পাস হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী খোয়াজুর রহমান জানান, দুই দফায় বিকল্প সেতু নির্মাণ করা হয়, দুইবারই ভেঙে যাওয়ায় নতুন করে বরাদ্দ না পাওয়ায় আর বিকল্প সেতু নির্মাণ করা যাচ্ছে না। স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করা ভাসমান সেতুটি সংস্কারের কথা ঠিকাদারকে বলা হয়েছে। সেতুর সংযোগ সড়কের রিভাইস প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে, এটি অনুমোদন হয়ে এলে দ্রুত সময়ের মধ্যেই কাজ শেষ করা যাবে। আগামী ৩১ জুন পর্যন্ত সময়সীমা রয়েছে।

Related Posts

About The Author