আখাউড়ায় শেখ হাসিনার নামে স্বাগত পোস্টার

মনিয়ন্দ ইউনিয়নে পোস্টার ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে চাঞ্চল্য, দায় অস্বীকার চেয়ারম্যানের

নিজস্ব প্রতিবেদক:
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্ধ ইউনিয়নে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে স্বাগত জানিয়ে পোস্টার সাঁটানোর ঘটনায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। পোস্টারগুলোতে মনিয়ন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপক চৌধুরীর নাম ব্যবহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কসবা-আখাউড়া আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীর মুক্তির দাবিও জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার রাতে মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কে বা কারা এসব পোস্টার লাগিয়ে যায়। শুক্রবার ৫ সেপ্টেম্বর সকালে পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের নজরে আসে পোস্টারগুলো। এরপর থেকেই বিষয়টি নিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়।

পোস্টারে চেয়ারম্যান দীপক চৌধুরীর নাম থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে কৌতূহল আরও বেড়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, চেয়ারম্যান নিজে এসব পোস্টার লাগানোর নির্দেশ দিয়েছেন কি না, নাকি তাঁর অনুমতি ছাড়াই কেউ তাঁর নাম ব্যবহার করেছে।

ঘটনার বিষয়ে মনিয়ন্ধ ইউনিয়নের এক প্রবাসী যুবদল নেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বিষয়টিকে রহস্যজনক বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, ঘটনাটির পেছনে প্রকৃত কারণ এখনই বলা কঠিন। কয়েক দিন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করলে বিষয়টি পরিষ্কার হতে পারে।

এদিকে স্থানীয় যুবলীগ নেতা রিয়াদ পোস্টার লাগানোর ঘটনাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন বলে জানা গেছে। তিনি দুঃসময়ে দলের পক্ষে পোস্টার করার জন্য দীপক চৌধুরীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।

তবে পোস্টারের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন মনিয়ন্ধ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দীপক চৌধুরী। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, তাঁর নাম ব্যবহার করে কে বা কারা পোস্টার ছাপিয়ে ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে লাগিয়েছে, সে বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না।

চেয়ারম্যানের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাঁকে বিব্রত করা এবং ভবিষ্যতে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা আইনি সমস্যায় ফেলার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে তাঁর নাম ব্যবহার করে থাকতে পারে।

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে তিনি কখনো সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন না। এমনকি সর্বশেষ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর বিপরীতে নির্বাচন করে বিজয়ী হন।

এদিকে, স্থানীয় রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে পোস্টারটি প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও নানা আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে একজন জনপ্রতিনিধির নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক বক্তব্যসম্বলিত পোস্টার প্রকাশ্যে আসায় এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল সময়ে এ ধরনের পোস্টার মানুষের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই কৌতূহল ও উদ্বেগ তৈরি করতে পারে। তারা ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে বিষয়টি খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।

তবে এখন পর্যন্ত পোস্টারগুলো কারা তৈরি করেছে, কোথা থেকে ছাপানো হয়েছে এবং কার নির্দেশনায় ইউনিয়নের বিভিন্ন স্থানে লাগানো হয়েছে—এসব বিষয়ে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

ঘটনাটি নিয়ে মনিয়ন্ধ ইউনিয়নে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। চেয়ারম্যানের নাম ব্যবহার করে পোস্টার লাগানোর পেছনে প্রকৃত কারণ কী এবং এর সঙ্গে কারা জড়িত—তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে বলে স্থানীয়দের প্রত্যাশা।

তবে পোস্টারে উল্লেখিত রাজনৈতিক দাবিগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযোজন করা হবে।

Related Posts

About The Author