আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ অন্ধকার,ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের দাপুটে নেতা ওবায়দুল কাদের এখন স্বদেশের মাটিতে ফেরার জন্য ব্যাকুল। কিন্তু সীমান্তের ওপার থেকে ফেরার পথটা যেন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। কলকাতার নিউ টাউনের বিলাসবহুল ফ্ল্যাটের চার দেয়ালের মাঝে এখন আর রাজনীতির মাঠ কাঁপানো সেই দাপট নেই, নেই ‘খেলা হবে’ বলে হুংকার ছাড়ার চেনা মেজাজ। আছে শুধু গুমোট দীর্ঘশ্বাস আর অনিশ্চয়তার চোরাবালি।

ভারতের আশ্রয়ে থাকলেও কাদেরের গলায় এখন ক্ষোভের সুর-যে ভারত বা আমেরিকার ওপর ভরসা করে তারা তরী পার হতে চেয়েছিলেন, সেই মহাশক্তিগুলোর কাছে এখন আওয়ামী লীগ যেন এক ব্রাত্য অধ্যায়। ভূরাজনীতির বিশাল ক্যানভাসে ইউরোপ-আমেরিকার কাছে দলটির ভাগ্য এখন নেহায়েত এক নগণ্য বিষয় ছাড়া কিছুই নয়। কাদেরের সাফ কথা, শেখ হাসিনার একক শক্তিতেই রথ চলত আর বাকি নেতারা দায়িত্ব ভুলে আরাম-আয়েশে মগ্ন ছিলেন বলেই আজ তাদের এ পরিণতি।

গত ২৩ জানুয়ারি দিল্লিতে শেখ হাসিনার সশরীরে উপস্থিতি বা অন্তত একটি ভিডিও বার্তার আশায় বুক বেঁধেছিলেন নেতা কর্মীরা, ভেবেছিলেন পাশা উল্টে যাবে এক নিমেষে। কিন্তু সশরীরের বদলে মিলল কেবল এক বিষণ্ণ অডিও বার্তা, যেখানে ড. ইউনূসের ওপর ব্যক্তিগত ক্ষোভ ঝাড়তেই কেটে গেল সবটুকু সময়। কোনো দিশা না পেয়ে এখন কলকাতার আতিথেয়তা ছেড়ে কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ার কনকনে ঠান্ডায় বাকি জীবনটা কাটিয়ে দেওয়ার ছক কষছেন নির্বাসিত এসব নেতারা। তারা বুঝে গেছেন, রাজনীতির হাটে তাদের গুরুত্ব এখন তলানিতে। কেউ আর তাদের নিয়ে ভাবার সময় পাচ্ছে না, এমনকি খোদ ইতিহাসও যেন মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, কাদের আর ভারতের কলকাতার নিউ টাউনে থাকতে চান না। ফিরতে চান বাংলাদেশে। কিন্তু ফেরার কোনো উপায় দেখছেন না আওয়ামী লীগের এই নেতা। তার মতে, ভারতের ওপর আমরা নির্ভর করে আছি কিন্তু ভারত বা আমেরিকার মতো বড় শক্তিগুলো আওয়ামী লীগ নেতাদের নিয়ে ভাবছে না। আমাদের ক্ষমতায় ফেরানো তাদের কাছে খুবই নগণ্য ব্যাপার। ইউরোপ-আমেরিকা এখন বড় বড় বিষয় নিয়ে ভাবছে। তারা আমাদের নিয়ে ভাবছেই না।

এভাবেই রীতিমতো ক্ষোভ ঝরে পড়েছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী নেতা ও বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের কণ্ঠে। আওয়ামী লীগ এখন ফিরতে পারবে না বলেও তিনি মত ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, হাসিনার শক্তিতে দলটি চলছিল। আওয়ামী নেতারা তাদের দায়িত্ব ঠিকভাবে পালন করেনি। তাই আমরা এ মুসিবতে পড়েছি। জানি না কবে এর হাত থেকে রেহাই পাব।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, কোনো দিশা পাচ্ছেন না পালিয়ে আসা নেতারা। এবার তারা ভারত ছেড়ে কানাডা বা অস্ট্রেলিয়ায় বাকি জীবন কাটানো যায় কি না, সে চেষ্টায় রত। অনেক নেতাই কলকাতা ছেড়ে একদম নির্বাসিত জীবনে চলে যেতে চাইছেন। তারা বুঝে গেছেন, আওয়ামী লীগ এখন সবার কাছে গুরুত্বহীন। কেউ তাদের নিয়ে ভাবে না।

Related Posts

About The Author