কুকুরের কামড়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আহত ৩০

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সাদেকপুর ইউনিয়নের কয়েকটি এলাকায় পাগলা কুকুরের আক্রমণে নারী ও শিশুসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ইউনিয়নের দামচাইল, খোলাপাড়া, সাদেকপুর ও হাংমাড়া মসজিদসংলগ্ন এলাকায় একের পর এক মানুষকে কামড়ানোর ঘটনা ঘটে।

হঠাৎ করে একটি কুকুরের আক্রমণে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আক্রান্তদের মধ্যে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিও রয়েছেন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা ধাওয়া করে হাংমাড়া মসজিদের কাছে কুকুরটিকে ধরে পিটিয়ে মেরে ফেলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, সোমবার বিকেলের দিকে কুকুরটি প্রথমে খোলাপাড়া এলাকায় ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। এরপর সেটি দামচাইল হয়ে সাদেকপুর ও আশপাশের এলাকায় চলে যায়। পথচারী, নারী-পুরুষ ও শিশুদের ওপর হঠাৎ আক্রমণ করে কামড়াতে থাকে। এতে কয়েকটি এলাকায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয় এবং অনেকে প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে চাননি।

কুকুরের কামড়ে আহতদের দ্রুত ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। একই সময়ে এত সংখ্যক রোগী হাসপাতালে আসায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সন্ধ্যার দিকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালের ওআরটিসি (জলাতঙ্ক প্রতিরোধ ও চিকিৎসা) বিভাগ চালু করা হয়।

হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আহতদের মধ্যে তারিফ (২০), সালমান (৪), বায়জিদ (১১), তারিন (১৬), আশরাফুল (১২), তসিবা (৯), রবিউল্লাহ (৪০), জামাল (৪৫), আব্দুল বাসার (৭০), নুর আলম (৪০), ইয়াসমিন (৩৫), তোফাজ্জাল (১৭) ও সাফিয়ার (৩২) নাম জানা গেছে। তবে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আক্রান্তের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

আহতদের স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, কুকুরটি অস্বাভাবিক আচরণ করছিল। কোনো ধরনের উসকানি ছাড়াই সেটি মানুষের দিকে ছুটে গিয়ে কামড় দিচ্ছিল। একপর্যায়ে বিষয়টি দ্রুত বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা সতর্ক হয়ে যান। পরে কয়েকজন বাসিন্দা একত্রিত হয়ে কুকুরটিকে আটকানোর চেষ্টা করেন।

হাসপাতালের ওআরটিসি বিভাগের ইনচার্জ ফেরদৌসী বেগম বলেন, কুকুরের আক্রমণে একসঙ্গে বেশ কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পাওয়ার পর জরুরি ভিত্তিতে বিভাগটি চালু করা হয়। আহতদের প্রয়োজন অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে নতুন কোনো আক্রান্ত হাসপাতালে এলে তাদেরও চিকিৎসার আওতায় আনা হবে।

হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য কামরুল হাসান জানান, সাদেকপুর এলাকা থেকে একসঙ্গে ২০ থেকে ৩০ জন মানুষ কুকুরের কামড়ে আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। বিষয়টি জানার পর দ্রুত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করা হয়।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রতন কুমার ঢালী বলেন, হাসপাতালে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী ভ্যাকসিন পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত রয়েছে। কুকুরের কামড় বা আঁচড়ের ঘটনাকে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়। আক্রান্ত ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে এসে চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, কুকুরের কামড়ের পর ক্ষতস্থানে ময়লা বা জীবাণু থাকতে পারে। তাই হাসপাতালে যাওয়ার আগে আক্রান্ত স্থান দ্রুত সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে নেওয়া জরুরি। ক্ষতস্থানে মরিচ, চুন, তেল, মাটি বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান ব্যবহার না করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

এদিকে, একসঙ্গে এত মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে জলাতঙ্ক নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এলাকায় কুকুরের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উদ্যোগ প্রয়োজন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুকুরে কামড়ানো বা আঁচড়ানোর পর উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা ও চিকিৎসা গ্রহণ করলে জলাতঙ্কের ঝুঁকি অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা এড়াতে এলাকায় বেওয়ারিশ ও আক্রমণাত্মক কুকুরের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

Related Posts

About The Author