রায়পুরায় ১১ দিন পর কিশোরের মরদেহ উদ্ধার

নরসিংদীর রায়পুরায় অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার ১১ দিন পর মনির হোসেন (১৭) নামে এক কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার আদিয়াবাদ ইউনিয়নের শিকদারপাড়ার দরগাসংলগ্ন বড়বিলের কচুরিপানার নিচ থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বিলের আশপাশে দুর্গন্ধ পেয়ে এর উৎস খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে কচুরিপানা সরাতে গিয়ে পানির মধ্যে মরদেহ দেখতে পান তারা। পরে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হলে রায়পুরা থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।

নিহত মনির হোসেন রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা শাহ আলম মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, সোমবার দুপুরের দিকে শিকদারপাড়ার দরগার কাছের বড়বিল এলাকা থেকে স্থানীয়দের নাকে দুর্গন্ধ আসছিল। প্রথমে বিষয়টি নিয়ে সন্দেহ হলেও পরে কয়েকজন বাসিন্দা পানিতে নেমে দুর্গন্ধের উৎস খুঁজতে থাকেন। কচুরিপানার একটি অংশ সরানোর পর তারা মরদেহটি দেখতে পান। খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশের লোকজন সেখানে জড়ো হন।

পরে রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) রেজাউল করিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করেন। এ সময় নিখোঁজ মনিরের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়। তারা ঘটনাস্থলে এসে মরদেহের পরনে থাকা পোশাক দেখে মনির হোসেন হিসেবে শনাক্ত করেন।

পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মরদেহের গলায় একটি বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে কিশোরটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। এরপর মরদেহটি বিলের পানিতে কচুরিপানার নিচে লুকিয়ে রাখা হয় বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

মরদেহ উদ্ধারের পর সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশ নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানা যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

১১ দিন আগে অটোরিকশা নিয়ে বের হন মনির

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মনির হোসেন। প্রতিদিনের মতো বের হওয়ার পর তিনি নির্ধারিত সময়ে বাড়িতে ফিরে আসেননি। প্রথমে পরিবারের সদস্যরা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের বাড়িতে খোঁজ নেন।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে উদ্বেগ বাড়তে থাকলে পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন এলাকায় তার সন্ধান করা হয়। সম্ভাব্য জায়গাগুলোতে খোঁজ করেও কোনো সন্ধান না পাওয়ায় পরদিন রায়পুরা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

এরপর গত ১১ দিন ধরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় মনিরের সন্ধান চালিয়ে আসছিলেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ পরিচিতজনদের মাধ্যমেও তার সন্ধান পাওয়ার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু কোনো তথ্য পাওয়া যাচ্ছিল না।

সোমবার বিল থেকে একটি মরদেহ উদ্ধারের খবর পেয়ে মনিরের পরিবারের সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তারা পোশাক দেখে মরদেহটি মনিরের বলে শনাক্ত করেন। দীর্ঘদিন নিখোঁজ থাকার পর ছেলের মরদেহ পাওয়ায় পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

অটোরিকশাটির সন্ধানে পুলিশ

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, মনিরের সঙ্গে থাকা অটোরিকশাটি এই ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে। অটোরিকশাটি কোথায় রয়েছে এবং সেটি উদ্ধারের মাধ্যমে ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করা সম্ভব কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

এসআই রেজাউল করিম বলেন, মরদেহের গলায় বেল্ট পেঁচানো অবস্থায় পাওয়া গেছে। পরিবারের সদস্যরা পোশাক দেখে মরদেহ শনাক্ত করেছেন। প্রাথমিকভাবে অটোরিকশা ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য কিশোরটিকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অটোরিকশাটি উদ্ধারের পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, ঘটনাটি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। নিখোঁজের পর মনির কোথায় গিয়েছিলেন, কার সঙ্গে তার যোগাযোগ হয়েছিল এবং অটোরিকশাটি সর্বশেষ কোথায় দেখা গিয়েছিল—এসব বিষয়ও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

এদিকে, মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয়দের মধ্যেও উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসীর দাবি, কিশোরটির মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য দ্রুত উদ্‌ঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। পাশাপাশি অটোরিকশা চালক ও কিশোরদের নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

নিহত মনির হোসেনের বাবা শাহ আলম মিয়া ছেলেকে হারিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি বলেন, অটোরিকশার জন্য তার ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকলে এর সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত খুঁজে বের করতে হবে। তিনি ছেলের হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট, ঘটনাস্থলের আলামত এবং অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণ করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে। একই সঙ্গে নিখোঁজ অটোরিকশাটির সন্ধানেও অভিযান চালানো হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

আরও পড়ুনঃ রেলসেতুর নিচে মরদেহ উদ্ধার

Related Posts

About The Author