রেলসেতুর নিচে মরদেহ উদ্ধার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় ঢাকা-সিলেট রেলপথের আখাউড়া-আজমপুর বাইপাস রেললাইনের খড়মপুর এলাকায় একটি রেলসেতুর নিচ থেকে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে পানিতে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে প্রথমে আখাউড়া থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে রেলওয়ে থানা-পুলিশ সেখানে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। উদ্ধার করা মরদেহের সঙ্গে থাকা একটি ব্যাগ তল্লাশি করে একটি মানিব্যাগ, কিছু নগদ টাকা, স্মার্টফোন এবং একটি প্রতিষ্ঠানের পরিচয়পত্র পাওয়া যায়।

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পরিচয়পত্রে ‘হা-মীম গ্রুপের বঙ্গ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি’ এবং ‘ওয়েল্ডিং সেকশন’ উল্লেখ রয়েছে। সেখানে কর্মীর নাম হিসেবে ‘মো. মিজান’ লেখা ছিল। পরিচয়পত্রে থাকা ছবির সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ব্যক্তির চেহারার প্রাথমিক মিল পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আখাউড়া রেলওয়ে জিআরপি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. কাদের জানান, খবর পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। মরদেহের মাথা ও মুখে আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে। ব্যাগের ভেতর থেকে পাওয়া জিনিসপত্রের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, চলন্ত ট্রেন থেকে পড়ে গিয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। আবার ট্রেনের ধাক্কায় তিনি রেললাইন থেকে ছিটকে পড়েছেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এটি দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো কারণে মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ উল ইসলাম বলেন, রেলসেতুর নিচের অংশের দুই পাশে নেট দিয়ে ঘেরা রয়েছে। ফলে বাইরের কোনো স্থান থেকে মরদেহটি পানিতে ভেসে আসার সম্ভাবনা কম। এ কারণে ওই ব্যক্তি কীভাবে সেখানে পৌঁছালেন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলের আশপাশের এলাকা পর্যবেক্ষণ করেছে। পাশাপাশি নিহত ব্যক্তির সঙ্গে থাকা সামগ্রীগুলো জব্দ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাঁর কর্মস্থল ও স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর ময়নাতদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কীভাবে ওই ব্যক্তি রেলসেতুর নিচে পানিতে পড়ে গেলেন, সেটি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে চায় না পুলিশ।

আইনি প্রক্রিয়া শেষে নিহত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

Related Posts

About The Author