আখাউড়ায় ফুটপাত দখল, যুবক কারাগারে

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া পৌরশহরের ব্যস্ততম সড়কবাজার এলাকায় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং পথচারীদের চলাচলে বাধা দেওয়ার অভিযোগে মো. জনি মিয়া নামে এক যুবককে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দণ্ডপ্রাপ্ত জনি মিয়া উপজেলার দক্ষিণ ইউনিয়নের কল্যাণপুর গ্রামের বাসিন্দা।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় সড়কবাজার এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ফুটপাত দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করায় জনি মিয়াকে আটক করা হয়। পরে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

ভ্রাম্যমাণ আদালতের এ অভিযান পরিচালনা করেন আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী রাবেয়া।

উপজেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার রাতে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সড়কবাজার এলাকায় ফুটপাতের ওপর ব্যবসা পরিচালনার কারণে সাধারণ পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছিল। পাশাপাশি ব্যস্ত এলাকায় যান চলাচলেও এর প্রভাব পড়ছিল। এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।

ইউএনও ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তাপসী রাবেয়া বলেন, শহরের যানজট কমানো এবং পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। কেউ ফুটপাত দখল করে সাধারণ মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি অনুযায়ী জরিমানা কিংবা আইন অনুযায়ী আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আখাউড়া পৌরশহরের সড়কবাজার এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল ও যানজট একটি বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে ব্যস্ত সময়ে ফুটপাত ও সড়কের বিভিন্ন অংশে দোকানপাট বসানোর কারণে পথচারীদের মূল সড়ক দিয়ে চলাচল করতে হতো। এতে যানজটের পাশাপাশি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও তৈরি হতো।

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ফুটপাত ও সড়কের ওপর বসা হকার এবং ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের জন্য পৌরসভা কার্যালয়ের পাশে নির্ধারিত জায়গায় ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। একই এলাকায় মোটরসাইকেল রাখার জন্যও আলাদা পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শহরের ব্যস্ত সড়কগুলোতে যানজট নিয়ন্ত্রণে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি আনসার সদস্যদেরও দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের এসব উদ্যোগের ফলে সড়কবাজার এলাকায় আগের তুলনায় যানজট কিছুটা কমেছে এবং পথচারীদের চলাচলেও স্বস্তি ফিরেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা।

উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, শহরের যানজট নিরসন ও সার্বিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও সুধীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে নিয়মিতভাবে এ ধরনের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

Related Posts

About The Author