ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলায় অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, মারধর এবং পণ্যবাহী গাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ সিগারেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি)।
গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম হৃদয় (২৭)। তিনি চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানার তুলাতুলি বস্তি এলাকার বাসিন্দা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, চট্টগ্রামের কোতোয়ালি থানায় দায়ের হওয়া মামলায় হৃদয়কে এজাহারভুক্ত এক নম্বর আসামি করা হয়েছে।
এসআরবি সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যা সোয়া ৭টার দিকে সরাইল সদর ইউনিয়নের তিতাস গ্যাস ফিল্ডের সামনে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। এসআরবি-৯ ও এসআরবি-৭-এর সদস্যদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ দল গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানের সময় সন্দেহভাজন হৃদয়কে শনাক্ত করে আটক করা হয়।
মামলার নথি ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম ও তাঁর অংশীদারদের সিগারেট নিয়ে একটি পিকআপ চট্টগ্রামের কাজীর দেউড়ি এলাকা থেকে রিয়াজ উদ্দিন বাজারের দিকে যাচ্ছিল। গাড়িটি নগরের লাভলেইন মোড় এলাকায় পৌঁছালে একটি পেট্রল পাম্পের কাছাকাছি কয়েকজন ব্যক্তি অস্ত্র নিয়ে সেটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, ওই সময় পিকআপের চালক ও হেলপারের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদার টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। একপর্যায়ে গাড়িতে থাকা বিপুল পরিমাণ সিগারেট অন্য একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। হামলায় চালক ও হেলপার আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে যান।
ঘটনার পরদিন, ২০ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে চট্টগ্রাম নগরের কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। মামলায় চাঁদা দাবি, মারধর ও সিগারেট নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনা হয়।
মামলা হওয়ার পর ঘটনাটির ছায়া তদন্ত শুরু করে এসআরবি-৯। তদন্তের অংশ হিসেবে মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি চালানো হয়। একপর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হৃদয়ের সরাইলে অবস্থানের বিষয়ে তথ্য আসে।
পরে ওই তথ্যের ভিত্তিতে সরাইল সদর ইউনিয়নের তিতাস গ্যাস ফিল্ডের সামনের সড়কে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে হৃদয়কে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় যৌথ দলটি।
আরও পড়ুনঃ বরাদ্দ নিয়ে কসবায় বিএনপির দুই পক্ষের হাতাহাতি, আহত ৫
এসআরবি-৯-এর সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়েছে, গ্রেপ্তারের পর হৃদয়কে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। মামলার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
এদিকে ব্যবসায়ীকে লক্ষ্য করে চাঁদা দাবি এবং পণ্যবাহী গাড়ি আটকে মালামাল নিয়ে যাওয়ার অভিযোগকে গুরুতর হিসেবে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে সরাইল পর্যন্ত অভিযুক্ত ব্যক্তির চলাচল ও অবস্থানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তবে গ্রেপ্তার হৃদয়ের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তাঁর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত শেষে মামলার ঘটনার সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা ও অন্যদের ভূমিকা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যেতে পারে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

