ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা ও একটি টয়োটা Probox প্রাইভেটকার উদ্ধার করেছে পুলিশ। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে মাদক বহনের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে থাকা মো. জহিরুল ইসলাম (৩৫) ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬) বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে আখাউড়া উপজেলার ৪ নম্বর আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর রেলক্রসিং এলাকার কাছে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। পুলিশ জানায়, রেলক্রসিং থেকে প্রায় ৫০ গজ উত্তরে আখাউড়া বাইপাস থেকে সিংগারবিলের দিকে যাওয়া পাকা সড়কে অভিযানটি চালানো হয়।
পুলিশের অভিযানে ফেলে যাওয়া গাড়ি
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অভিযান পরিচালনার সময় একটি প্রাইভেটকার সেখানে রেখে দ্রুত সরে যান জহিরুল ইসলাম। পরে ঘটনাস্থলে থাকা গাড়িটিতে তল্লাশি চালায় পুলিশ। তল্লাশির একপর্যায়ে প্রাইভেটকারের ভেতর থেকে বিপুল পরিমাণ গাঁজা পাওয়া যায়।
পুলিশের দাবি, গাড়িটি থেকে মোট ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। পরে উদ্ধার করা মাদকদ্রব্য ও ব্যবহৃত প্রাইভেটকারটি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জব্দ করা হয়।
ঘটনার পর থেকে পলাতক ব্যক্তিকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপরতা চালাচ্ছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে উদ্ধার করা মাদক কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এর গন্তব্য কোথায় ছিল, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
যেভাবে অভিযান পরিচালনা করা হয়
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আব্দুর রউফের নির্দেশনায় মাদকবিরোধী এ বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নাজমুস সাকিবের দিকনির্দেশনায় অভিযানের কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
আখাউড়া থানার চার্জ অফিসার ইনচার্জ তানভীর আহমেদের সার্বিক নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। অভিযানে আখাউড়া থানার এসআই (নিরস্ত্র) আবদুল্লাহ আল মামুন, এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আলী রেজা মামুন এবং এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ বিল্লাল হোসেনসহ পুলিশের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন।
পুলিশের উপস্থিতি বুঝতে পেরে সন্দেহভাজন ব্যক্তি গাড়িটি রেখে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা।
পলাতক ব্যক্তির পরিচয়
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পলাতক মো. জহিরুল ইসলাম (৩৫) বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের মো. জজ মিয়ার ছেলে।
তাকে গ্রেপ্তারের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পাশাপাশি উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্যের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
মাদকবিরোধী অভিযান অব্যাহত
আখাউড়া সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় মাদক পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরদারি গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন সময় এ অঞ্চলে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে মাদকদ্রব্য উদ্ধারের পাশাপাশি সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকে।
পুলিশ জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের পাচার ও বিস্তার রোধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে। মাদক পরিবহন, সংরক্ষণ কিংবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এদিকে রামধননগর এলাকায় অভিযানের সময় উদ্ধার হওয়া ১০ কেজি গাঁজা ও Toyota Probox প্রাইভেটকার বর্তমানে পুলিশের জব্দ তালিকায় রয়েছে। উদ্ধার হওয়া মাদকদ্রব্য ও গাড়ির বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে আখাউড়া থানা পুলিশ।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, ঘটনায় পলাতক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের পাশাপাশি মাদক পরিবহনের সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
আইনি সতর্কতা: প্রতিবেদনে উল্লিখিত ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ ও পুলিশের বক্তব্য তদন্তাধীন বিষয়। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত তাকে আইনগতভাবে দোষী হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

