পুলিশের অভিযানে আখাউড়ায় ৩৪০০ ইয়াবাসহ নারী গ্রেফতার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের ধর্মনগর এলাকায় অভিযান চালিয়ে মোট ৩ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় মোছাঃ রাশিদা বেগম (৩২) নামে এক নারীকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। একই ঘটনায় তার স্বামী মোঃ সুহরাব মিয়া ওরফে সোহরাব মিয়া (৪০)-কে পলাতক আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটের দিকে ধর্মনগর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানের অংশ হিসেবে পুলিশ ওই এলাকায় তল্লাশি চালায়। পরে একটি পাকা একতলা ভবনে অভিযান পরিচালনা করে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয়।

তল্লাশিতে মিলল ৩৪০০ পিস ইয়াবা

পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ধর্মনগর এলাকার একটি পূর্বমুখী পাকা একতলা ভবনে তল্লাশি চালানো হয়। ভবনের উত্তর পাশের একটি শয়নকক্ষে থাকা টেবিলের ডান পাশের ড্রয়ারে ইয়াবা ট্যাবলেটগুলো রাখা ছিল।

তল্লাশির সময় গ্রেফতার হওয়া রাশিদা বেগমের দেখানো মতে ওই ড্রয়ার থেকে ইয়াবাগুলো উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। পরে উদ্ধার হওয়া ৩ হাজার ৪০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট জব্দতালিকা প্রস্তুতের মাধ্যমে জব্দ করা হয়। অভিযানের সময় ঘটনাস্থল থেকেই রাশিদা বেগমকে আটক করা হয়।

মাদকবিরোধী অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনায় এলাকায়ও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, মাদকদ্রব্যের বিস্তার রোধে নিয়মিতভাবে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

পুলিশের নেতৃত্বে বিশেষ অভিযান

পুলিশ জানায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শাহ মোঃ আব্দুর রউফের নির্দেশনায় এবং কসবা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোঃ নাজমুস সাকিবের দিকনির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।

আখাউড়া থানার চার্জ অফিসার ইনচার্জ তানভীর আহমেদের সার্বিক নেতৃত্বে অভিযানে পুলিশের একটি দল অংশ নেয়। অভিযানে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ আসাদুর রহমান, এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ বিল্লাল হোসেন, এএসআই (নিরস্ত্র) মোঃ ওমর ফারুক, এএসআই (নিরস্ত্র) আবুল হোসেন, এএসআই (নিরস্ত্র) সজীবুল হাসান খান, এএসআই (নিরস্ত্র) আবুল হোসেন এবং নারী কনস্টেবল/৫৫৫ মোছাঃ রোজিনা আক্তারসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও কার্যকর করতে বিভিন্ন এলাকায় নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। সন্দেহজনক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

স্বামীকে পলাতক আসামি করা হয়েছে

এ ঘটনায় গ্রেফতার রাশিদা বেগমের স্বামী মোঃ সুহরাব মিয়া ওরফে সোহরাব মিয়াকে পলাতক আসামি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তিনি ধর্মনগর এলাকার মৃত মোঃ ইসমাইল মিয়ার ছেলে।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযান চলাকালে সুহরাব মিয়া ঘটনাস্থলে ছিলেন না। তাকে গ্রেফতারের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে উদ্ধার হওয়া ইয়াবার উৎস এবং এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করা হচ্ছে।

মাদকের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের ঘোষণা

আখাউড়া সীমান্তবর্তী উপজেলা হওয়ায় মাদক পাচার প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। সীমান্তপথে মাদক প্রবেশ ও স্থানীয় পর্যায়ে এর বিস্তার ঠেকাতে পুলিশের পাশাপাশি অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাও বিভিন্ন সময়ে অভিযান পরিচালনা করে থাকে।

আখাউড়া থানা পুলিশ জানিয়েছে, মাদক ব্যবসা, পাচার ও মাদকদ্রব্য সংরক্ষণের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

এ ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ইয়াবা ট্যাবলেটের বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। গ্রেফতার রাশিদা বেগমের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

আইনি সতর্কতা: প্রতিবেদনে উল্লেখিত অভিযোগগুলো পুলিশের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশ করা হয়েছে। আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত গ্রেফতার হওয়া বা মামলায় অভিযুক্ত কোনো ব্যক্তিকে আইনগতভাবে দোষী হিসেবে গণ্য করা যায় না।

Related Posts

About The Author