ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় অনুমোদন ছাড়াই ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে দুটি ড্রেজার মেশিন ও প্রায় ৮ হাজার ফুট পাইপ ধ্বংস করা হয়েছে। এ সময় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে রমজান মিয়া (৫৮) নামে এক ব্যক্তিকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের পাশাপাশি এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার ধরখার ইউনিয়নের বনগজ, ভাটামাথা ও তন্তর এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকার বিভিন্ন স্থানে ড্রেজার ব্যবহার করে অনুমোদনহীনভাবে মাটি উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এতে স্থানীয়ভাবে পরিবেশ ও কৃষিজমির ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযান চলাকালে মাটি উত্তোলনে ব্যবহৃত দুটি ড্রেজার মেশিনের পাশাপাশি প্রায় ৮ হাজার ফুট পাইপের সন্ধান পাওয়া যায়। পরে সেগুলো ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট করা হয়, যাতে পুনরায় এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করা না যায়।
এ সময় ড্রেজার ব্যবসার সঙ্গে জড়িত রমজান মিয়াকে আটক করে ভ্রাম্যমাণ আদালতে হাজির করা হয়। শুনানি শেষে আদালত তাকে সাত দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমোদন ছাড়া ড্রেজার দিয়ে মাটি উত্তোলনের ফলে অনেক এলাকায় কৃষিজমি ও আশপাশের ভূমির স্বাভাবিক গঠন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কোথাও কোথাও মাটি কাটার কারণে জমির পাশের অংশ ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের নিয়মিত নজরদারি প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
আখাউড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কফিল উদ্দিন মাহমুদ বলেন, অবৈধভাবে ড্রেজার ব্যবহার করে মাটি উত্তোলনের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের অভিযান চলমান থাকবে। জনস্বার্থ ও পরিবেশের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রশাসন জানিয়েছে, অনুমোদন ছাড়া মাটি উত্তোলন কিংবা ড্রেজার পরিচালনার বিষয়ে অভিযোগ পাওয়া গেলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে অবৈধভাবে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতির বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হবে।

