ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে বসতবাড়ির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার দুপুরে উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুন্সিহাটি এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শাহবাজপুর ইউনিয়নের মুন্সিহাটি ওবায়দুল্লাহ সড়কে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। পরে তা ধীরে ধীরে ব্যাপক আকার ধারণ করে। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ চলে। খবর পেয়ে সরাইল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মুন্সিহাটি এলাকার ১ দশমিক ৮১ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা শাহীন আলমের বড় ভাই হাজি বিল্লাল মিয়ার সঙ্গে একই এলাকার আবু আহমেদের ছেলে ইলিয়াস মিয়া ও আওলাদ হোসেনের লোকজনের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। জমিটি বসতবাড়ির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হওয়ায় বিরোধটি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আগে থেকেই উত্তেজনা ছিল।
স্থানীয়রা জানান, জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ মীমাংসার জন্য বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছেও নেওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে একটি অভিযোগও দেওয়া হয়। তবে সেখানে হাজি বিল্লাল মিয়ার পক্ষ আপত্তি জানিয়ে চলে আসেন বলে জানা গেছে। ফলে বিষয়টির কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি।
এদিকে, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে গত কয়েকদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বাড়তে থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উভয় পক্ষের লোকজন পাল্টাপাল্টি পোস্ট দেওয়ায় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। স্থানীয়দের মধ্যে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার দুপুরে দুই পক্ষের লোকজনের মধ্যে প্রথমে কথাকাটাকাটি ও উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে লাঠিসোঁটা ও অন্যান্য দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয় বলে জানা গেছে। এতে দুই পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
সংঘর্ষের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি হয়। স্থানীয়রা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলতে থাকে। পরে খবর পেয়ে সরাইল থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার পর এলাকায় উত্তেজনা কিছুটা কমে আসে।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ বিভিন্ন হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। আহতদের মধ্যে উভয় পক্ষের লোকজন রয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। এর আগে বিষয়টি প্রশাসনের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা চূড়ান্তভাবে নিষ্পত্তি হয়নি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি পোস্টের পর বিরোধ নতুন করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে।
ঘটনার পর এলাকায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানা না গেলেও পুলিশ পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে জানা গেছে।
সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া বলেন, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকার পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হওয়ায় বিষয়টি দ্রুত মীমাংসার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে যেন জমি সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে কেউ সংঘর্ষে না জড়ায়, সে বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

