ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে বিদ্যালয়ে গিয়ে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে কুলসুম আক্তার (৯) নামে দ্বিতীয় শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাসিরপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত কুলসুম নাসিরপুর গ্রামের সৌদি আরবপ্রবাসী জয়নাল মিয়ার মেয়ে। সে ওই বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ত।
বিদ্যালয় ও পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার সকালেও সুস্থ অবস্থায় স্কুলের উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হয় কুলসুম। সকালে বাড়িতে ভাত রান্না না হওয়ায় তার মা তাকে মুড়ি ও চা খেতে দেন। এরপর সে বিদ্যালয়ে চলে যায়। স্কুলে পৌঁছে সহপাঠীদের সঙ্গে কিছু সময় খেলাধুলাও করে।
পরে বিদ্যালয়ের টিউবওয়েল থেকে পানি পান করে সে। পানি পান করার কিছুক্ষণ পর দ্বিতীয় তলার শ্রেণিকক্ষে যাওয়ার জন্য সিঁড়ি দিয়ে ওঠার সময় হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় কুলসুম। বিষয়টি দেখতে পেয়ে পঞ্চম শ্রেণির কয়েকজন শিক্ষার্থী তাকে সিঁড়ি থেকে নিচে নিয়ে আসে। এ সময় তার মাথায় পানি দেওয়া হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অসুস্থ হওয়ার পর কুলসুমের শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিল। পরিস্থিতি দেখে বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা দ্রুত তার পরিবারের সদস্যদের খবর দেন। পরে তার মা ও কয়েকজন শিক্ষক তাকে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
হাসপাতালে নেওয়ার পর সকাল ১০টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক কুলসুমকে মৃত ঘোষণা করেন। তবে ঠিক কী কারণে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। পানি পান করার সঙ্গে মৃত্যুর কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্টরা।
নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. শফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটিকে হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছিল। ময়নাতদন্ত না হওয়ায় মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
কুলসুমের বড় ভাই রিয়াদ মিয়া বলেন, সকালে তার বোন সম্পূর্ণ সুস্থ ছিল। স্কুলে যাওয়ার পর হঠাৎ অসুস্থ হয়ে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী সহপাঠী ওবায়দুল জানায়, পানি খাওয়ার পর সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার সময় কুলসুমের মাথা ঘুরতে শুরু করে। একপর্যায়ে সে মেঝেতে পড়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিক্তা রানী দেব বলেন, কুলসুম ভালো শিক্ষার্থী ছিল। হঠাৎ করে তাকে হারানোয় বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী সবাই শোকাহত। অসুস্থ হওয়ার পর দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলেও শেষ পর্যন্ত তাকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি।
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ইসহাক মিয়া জানান, বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে মারা যাওয়ার বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুল ইসলাম বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বিষয়টি খতিয়ে দেখেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ না থাকায় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহ স্বজনদের কাছে দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুনঃ গ্যাস লাইন ছিদ্র করে গ্যাস চুরি।

