নাসিরনগরে লুডু খেলা নিয়ে বিরোধ ও মারধরে যুবকের মৃত্যু

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মুঠোফোনে লুডু খেলা নিয়ে কথা-কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনায় রফিক মিয়া (৪০) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত রফিক মিয়া ওই গ্রামের মৃত লোকমান মিয়ার ছেলে। তিনি পেশায় দিনমজুর ছিলেন। তাঁর মা-বাবা দুজনই মারা গেছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শহিদ মাস্টারের বাগানবাড়িতে বসে সালমান মিয়া ও বশির আহমেদ মোবাইল ফোনে লুডু খেলছিলেন। এ সময় সেখানে গিয়ে তাঁদের খেলা দেখতে থাকেন রফিক। খেলা চলার একপর্যায়ে রফিক তাঁদের চাল নিয়ে ভুল হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন।

এ নিয়ে সালমান ও বশিরের সঙ্গে রফিকের কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। তাঁরা খেলা নিয়ে মন্তব্য না করার জন্য রফিককে বলেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয় মাহফুজ মিয়া ও ধলু মিয়া সেখানে গিয়ে তিনজনকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। পরে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিকও হয়।

স্থানীয় সূত্রের ভাষ্য, এর কয়েক মিনিট পর সালমান আবার রফিকের সঙ্গে উত্তেজিত হয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তিনি রফিকের গলা চেপে ধরেন এবং তাঁকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন। এতে রফিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে মাটিতে পড়ে যান।

পরে আশপাশের লোকজন তাঁকে দ্রুত উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর রফিককে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের চাচাতো ভাই জিলু মিয়া বলেন, মোবাইলে লুডু খেলার সময় রফিক তাঁদের চালের ভুল ধরিয়ে দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তাঁকে মারধর করা হলে কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁর মৃত্যু হয়।

ঘটনার বিষয়ে সালমান মিয়া ও বশির আহমেদের বক্তব্য জানতে তাঁদের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম জানান, নিহতের শরীরে বড় ধরনের আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে কিল-ঘুষির কিছু চিহ্ন রয়েছে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে গাছ ও কাঠসহ বিভিন্ন জিনিস ছিল। সেখানে চাপ লেগে কোনোভাবে রফিক আহত বা অসুস্থ হয়ে থাকতে পারেন কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

Related Posts

About The Author