সাপের কামড়ে যুবকের মৃত্যু, অ্যান্টিভেনম ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে বিষধর সাপের কামড়ে উজ্জ্বল মিয়া (৩৬) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার দিকে উপজেলার শ্রীরামপুর ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে সাপের কামড়ের শিকার হন তিনি। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত ঢাকায় নেওয়ার পথে ভৈরব এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

নিহত উজ্জ্বল মিয়া শ্রীরামপুর গ্রামের এছান মিয়ার ছেলে। তার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ না করা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও সময়মতো অ্যান্টিভেনম দেওয়া হয়নি।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে বাড়ির আশপাশে থাকা অবস্থায় উজ্জ্বল মিয়াকে একটি সাপে কামড় দেয়। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যরা সময় নষ্ট না করে তাকে নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।

তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেন। পরে স্বজনরা তাকে দ্রুত জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। কিন্তু ঢাকায় পৌঁছানোর আগেই ভৈরব এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

উজ্জ্বল মিয়ার স্বজনদের দাবি, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর অ্যান্টিভেনম দেওয়ার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের অভিযোগ, দ্রুত অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা গেলে হয়তো রোগীকে বাঁচানোর সুযোগ তৈরি হতে পারত। এ ঘটনায় হাসপাতালের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

তবে স্বজনদের এই অভিযোগের সঙ্গে একমত নন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তারা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, রোগীর অবস্থা ও সাপের কামড়ের লক্ষণ বিবেচনা করেই চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

নবীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হাবীবুর রহমান জানান, হাসপাতালে অ্যান্টিভেনমের মজুত ছিল। রোগীকে হাসপাতালে আনার পর অ্যান্টিভেনম দেওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকদের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু রোগীর স্বজনরা অ্যান্টিভেনম দিতে সম্মতি দেননি বলে তিনি দাবি করেন। পরে রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

অন্যদিকে একই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক মুসলেমা সৈয়দা জেনিন জানান, রোগীকে হাসপাতালে আনার সময় তার শরীরে বিষধর সাপের কামড়ের প্রত্যাশিত উপসর্গ স্পষ্টভাবে পাওয়া যায়নি। এ কারণে তখনই অ্যান্টিভেনম প্রয়োগ করা হয়নি। চিকিৎসকরা প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর রোগীর অবস্থার বিষয়টি বিবেচনা করে তাকে জেলা সদর হাসপাতালে রেফার করেন।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের বক্তব্যে অ্যান্টিভেনম দেওয়ার বিষয়ে ভিন্ন দাবি উঠে আসায় বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও আলোচনা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে সাপের কামড়ের মতো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অ্যান্টিভেনম প্রয়োগের গুরুত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

স্থানীয়দের মতে, গ্রামাঞ্চলে সাপের কামড়ের ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি। একই সঙ্গে হাসপাতালে পর্যাপ্ত অ্যান্টিভেনম, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক এবং জরুরি চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা থাকা প্রয়োজন।

উজ্জ্বল মিয়ার মৃত্যুর ঘটনায় পরিবারে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনরা বলছেন, একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষ সাপের কামড়ে অল্প সময়ের মধ্যে মারা যাওয়ায় তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তবে অ্যান্টিভেনম দেওয়া না দেওয়ার বিষয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আরও স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রত্যাশা করছেন তারা।

আরও পড়রুনঃ ব্রাহ্মনবারিয়া

Related Posts

About The Author