সাংবাদিক সজল আহাম্মদের মৃত্যু, শোকাহত স্বজনরা

দৈনিক মানবজমিনের কসবা উপজেলা প্রতিনিধি ও সাংবাদিক সজল আহাম্মদ খানের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বাদ আসর আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রাম দক্ষিণপাড়া বাইতুল ইজ্জত জামে মসজিদ মাঠে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খান বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।

তার জানাজায় পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়স্বজনের পাশাপাশি বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত সাংবাদিক, বন্ধু, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী এবং স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। প্রিয় মানুষটিকে শেষবারের মতো বিদায় জানাতে জানাজার মাঠে মানুষের উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য।

পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার ভোরে আখাউড়া পৌরশহরের দেবগ্রাম এলাকায় নিজ বাড়িতে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন সজল আহাম্মদ খান। এ সময় তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়। পরে স্বজনরা দ্রুত তাকে আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা করে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

সজল আহাম্মদ খান বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক নানা সমস্যায় ভুগছিলেন। সম্প্রতি শারীরিক অসুস্থতার কারণে তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। চিকিৎসা শেষে তিনি নিজ বাড়িতে ফিরে স্বাভাবিক জীবনযাপনের চেষ্টা করছিলেন। এরই মধ্যে আকস্মিকভাবে তার মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া।

মৃত্যুকালে সজল আহাম্মদ খান স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ অসংখ্য আত্মীয়স্বজন, বন্ধু এবং গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। সাংবাদিকতার পাশাপাশি তিনি সার্ভেয়ার আমিন ও দলিল লেখক হিসেবেও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতেন। বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে স্থানীয়ভাবে নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে তার পরিচিতি ও যোগাযোগ ছিল।

তার স্ত্রী রোখসানা ইয়াসমিন কসবা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। স্বামীর আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারটি গভীর শোকের মধ্যে রয়েছে।

জানাজার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে বক্তারা সজল আহাম্মদ খানের কর্মজীবন ও ব্যক্তিগত জীবনের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। এ সময় বক্তব্য দেন আখাউড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি শাহাদাত হোসেন লিটন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মো. বোরহান উদ্দিন খান, মরহুমের বড় ভাই ও সাবেক ব্যাংক কর্মকর্তা মো. ইকবাল আহাম্মদ খান, সাবেক পৌর কাউন্সিলর মো. বাবুল মিয়া এবং মরহুমের ছোট ভাই সহকারী অধ্যাপক জাবেদ আহাম্মদ খানসহ অন্যরা।

বক্তারা বলেন, সজল আহাম্মদ খান শুধু একজন সাংবাদিকই ছিলেন না, তিনি ছিলেন সহজ-সরল ও আন্তরিক স্বভাবের একজন মানুষ। মানুষের সঙ্গে তার আচরণ ছিল বন্ধুত্বপূর্ণ। পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্থানীয় সাংবাদিকতা অঙ্গনে একজন পরিচিত মুখের অনুপস্থিতি তৈরি হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, সজল আহাম্মদ খানের মতো একজন ভালো মনের মানুষের চলে যাওয়া পরিবার ও স্বজনদের জন্য যেমন অপূরণীয় ক্ষতি, তেমনি স্থানীয় সাংবাদিকতা ও সামাজিক পরিমণ্ডলেও এটি একটি বড় শূন্যতা। তার সহকর্মী ও পরিচিতজনরা দীর্ঘদিন তাকে স্মরণ করবেন।

এদিকে সজল আহাম্মদ খানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. বাহারুল ইসলাম মোল্লা। এক শোকবার্তায় তারা তার মৃত্যুতে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন।

শোকবার্তায় তারা মরহুমের পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। একই সঙ্গে এই কঠিন সময়ে শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের ধৈর্য ধারণের শক্তি কামনা করেন।

সজল আহাম্মদ খানের মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ার পর আখাউড়া ও কসবার সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে শোকের আবহ তৈরি হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেন এবং তার কর্মজীবনের বিভিন্ন স্মৃতি তুলে ধরেন।

পরিবারের সদস্য, সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের চোখের জলে বুধবার বিকেলে সম্পন্ন হয় তার জানাজা ও দাফন। পারিবারিক কবরস্থানে শেষ ঠিকানায় শায়িত হওয়ার মধ্য দিয়ে শেষ হয় সাংবাদিক সজল আহাম্মদ খানের পার্থিব জীবনের পথচলা।

Related Posts

About The Author